পিশাচ পর্ব ১| Demon Chapter 1


 

নিজের ১৫ বছরের মেয়ের যৌনাঙ্গ ধারালো একটি ছুরি দিয়ে কেটে পুরা জরায়ু সহ বের করে সামনের তারার মত পাঁচ কোণা গোল একটি চিহ্নের মাঝখানে রেখে দেয় মরগান ।


.
মরগান লাইমান পেশায় একজন দিন মজুর। বাড়ি তার আমেরিকার কোন এক রাজ্যে। খুব কষ্টে তার সংসার চালিয়ে দিন পার করে। তার ঘড়ে একটা মেয়ে সন্তান আর দুইটা ছেলে সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে মেয়েটাই বড়। তার স্ত্রী লরি কুরি তিনিও খুব একটা ধনী পরিবারবে সন্তান ছিলো না। লরি আর মরগান এর দাম্পত্য জীবনে খুব একটা সুখ ছিলো না। কারন অর্থ ছাড়া সুখে থাকা আর স্বপ্নে আমারিকার প্রধানমন্ত্রী হওয়া একই।

.
মরগান একদিন কাজের জন্যে বাড়ি থেকে বেশ দুরে যান কাজ করতে। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় একজন মানুষের সাথে। মানুষটি দেখতে একটু ভয়ানক টাইপের। আর মুখটা সব সময় কেমন জানি রাগী রাগী লাগে। লোকটির ডাক নাম হচ্ছে মাইকেল। মাইকেল মরগানকে বলে,
"তুমি কি ধনী এবং সব চেয়ে শক্তিশালী একজন মানুষ হতে চাও?"


মরগান হঠাৎ এমন কথা শুনে একটু চমকে উঠে বলে,
"ধনী কি আর ইচ্ছা করলেই হওয়া যায়। শক্তিশালী হতে চাই না। তিন বেলা ভালো খাইতে পারলেই যথেষ্ট। "
এবার মাইকেল বলে,
"আমি তোমাকে ধনী এবং তিন বেলা কেন সব বেলায় প্রচুর খাবার খাইতে পারবে।তবে আমার কথা মত কাজ করতে হবে।


মরগান কোন কিছু না ভেবেই বলে,
"তিন বেলা ভালো খেতে পারলে এর জন্যে যে কোন কিছু করতে রাজি আমি ?"
মাইকেল বলে,
" আচ্ছা ঠিক আছে। এখন আসল কথা শোন তোমাকে স্যাটানিজম এর দলে যুক্ত হতে হবে?"
হঠাৎ নামটা অজানা অচেনা হওয়ায় একটু আশ্চর্য হয়ে মরগান বলে,
"স্যাটানিজম কি?"


"স্যাটানিজম হচ্ছে এমন একটি দল যারা ব্লাক ম্যাজিক করে থাকে। যারা যখন ইচ্ছা,যেখানে ইচ্ছা ,যা ইচ্ছা সব কিছু করতে পারে। এমনকি এই পৃথিবীটাকে ধংস করে দেওয়ার মতোও ক্ষমতা রাখে।মন যা চায় তাই করতে পারে। "


এটা শোনার পর মরগান বলে,
"আমি কি যখন ইচ্ছা যা ইচ্ছা খেতে পারবো?"
"হুম পারবে।"
"আমি কি যাকে ইচ্ছা আমার বসেও আনতে পারবো?"
"হুম। যা ইচ্ছা সব করতে পারবে? তুমি কি কোন ধর্মে বিশ্বাসী?"
মরগান বলে,
"হ্যা আমি খ্রিষ্টান ধর্মে বিশ্বাসী?"
মাইকেল বলে,
"তাহলে খ্রিষ্টান ধর্মে যেমন স্বর্গে সব কিছু পাওয়া যাবে। যা ইচ্ছা তাই। ঠিক তেমনি এই স্যাটানিজম গ্রুপের সব সদস্যরাই দুনিয়াতেই স্বর্গ পায়। "


এবার মরগান লোভ নিয়ে বলে,
"আমি কিভাবে স্যাটানিজমে একজন সদস্য হতে পারি।তারাতারি বলো "
"আমি তোমাকে সব বুঝিয়ে দিবো এবং কিভাবে কি করতে হয় সব বলে দিবো। কিন্তু তুমি সত্যি স্যাটানিজম এর সদস্য হতে চাও?"
"হুম হতে চাই।"
"আচ্ছা ঠিক আছে তবে একটা শর্ত আছে? "
মরগান একটু ভয় নিয়ে বলে,
"কি শর্ত? "


"যদি একবার যুক্ত হয়ে যাও তাহলে আর কোনদিনো এই গ্রুপ ত থেকে বাহির হতে পাবে না।যদি কোন ভাবে বের হও বা হওয়ার চেষ্টা করো তাহলে সাথে সাথে তোমাকে হত্যা করবে।"
এবার অনেক ভয় পায় মরগান। তবুও ভয় নিয়েই বলে,
"আচ্ছা আমি কি শক্তিশালী এবং সব কিছু করতে পারবো?"
"হ্যা পাবারে।"


মরগান ভাবে যদি সত্যি শক্তিশালী হই তাহলে আর ছেড়ে দিবো কেন। আর শক্তি না পেলে ছেড়ে দিবো। এটা ভেবে বলে,
" তাহলে আমি রাজি। এখন বলো স্যাটানিজমের মুল কাজ কি আর কিভাবে কি করতে হয়? "
"আচ্ছা ঠিক আছে শোন স্যাটানিজম এর মুল কাজ হচ্ছে লুসিফার এর উপাসনা করা...
মাইকেলর কথার মাঝখানেই মরগান বলে,
"লুসিফার কে?"
মাইকেল বলে,
"লুসিফার শয়তানের আরেক নাম। আমাদের স্যাটানিজম গ্রুপের প্রভু হচ্ছে লুসিফার অথবা শয়তান । তিনি আমাদের চালিকাশক্তি এবং তিনি আমাদের শক্তিদানকারী। তার উপাসনা করে সব পাওয়া যাবে। যে যত বেশি উপাসনা করবে এবং যত বেশি শয়তানের জন্যে বির্সজন দেবে সে তত বেশি শক্তি লাভ করতে পারবে।"
মাইকেল এর থেকে মরগান এসব কথা শোনার পর থেকে শয়তানের পথসারি হয়ে যায়।


.
শয়তানের উপাসনার প্রথম স্টেপ হচ্ছে নিজের হাত দিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের বুকের বাম পাশে ৫ কোণাযুক্ত একটি তারা তৈরী করা। মরগান প্রথম দিন এসেই নিজের বুকে পাচ কোণাযুক্ত চিহ্ন আর্ট করে। এরপর শয়তানের উপাসনা করা শুরু করে দেয় মরগান।


এভাবে বেশ কিছুদিন শয়তানের নামে বিভিন্ন পশুপাখি জিবন্ত মাথা টেনে তাজা রক্ত দিয়ে শয়তানের উপাসনা করে।আস্তে আস্তে মরগান খুব তারাতারি ছোট একটা ক্ষমতা পেয়ে যায় সত্যি সত্যি।পাওয়ার বলতে ব্ল্যাক ম্যাজিক শিখে যায়। যেটা দিয়ে সে এক জায়গার জিনিস অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারে শুধু তার হাতের ইশারায়। যদিও খুব বড় জিনিস এর জায়গা স্থানান্তর করতে পারে না তবে কিছু ছোট জিনিসপত্রের জায়গা স্থানান্তর করতে পারতো।


এই ম্যাজিক শেখার পর থেকেই শয়তানের প্রতি বিশ্বাস আর বেরে যায়। এভাবে প্রায় ১ বছর কেটে যায়। মরগান এখন পুরাপুরি শয়তানের ভক্ত হয়ে গেছে এবং এর উপর আকৃষ্ট হয়ে যায়। শয়তান এর সম্পর্কে অনেক কিছু সে যেনেও যায়। তবুও শয়তান এর থেকে আরো বেশি এবং শক্তিশালী পাওয়ার বা ক্ষমতা নেওয়ার জন্যে মরগান আবার সেই মাইকেলের সাথে দেখা করে। মাইকেলের সাথে দেখা করে তাকে বলে,
"কিভাবে আরো বেশি শক্তি পেতে পারি আমি শয়তানের কাছ থেকে ?"সসম্পুর্ন গল্প পরতে রিকুয়েস্ট দাউ।


মরগান বলে,
"যে যত বেশি খারাপ কাজ করে শয়তানের উপাসনা করবে সে তত বেশি শক্তিশালী হবে এমনকি যৌনমিলন থেকে শুরু করে নর বা নারীহত্যা করেও।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"



আরো যাবতীয় সব কিছু শুনেই মরগান বাসায় চলে আসে আর ভাবতে থাকে কি এমন খারাপ কাজ আছে যেটার থেকে আর কোন খারাপ কাজ নাই?অনেকক্ষন ভাবতেই থাকে। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মেয়ের কথা মাথায় আছে। যদি সে তার মেয়েকে শয়তানের নামে বলি বা জবাই দেয় তাহলে সে অনেক বড় একটা শক্তি পেয়ে যাবে। যেই ভাবা সেই প্লান শুরু। নিজের মেয়েকে নিজের হাতে খুন করে ব্লাক ম্যাজিকের জগতে একজন শক্তিশালি মানুষ হতে চান।



বেশ কিছুদিন সুযোগ খুজতে থাকে। হঠাৎ করেই একদিন সুযোগ এসে গেল।
একদিন মরগানের স্ত্রী এবং তার দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে তার শশুড় বাড়িতে বেড়াতে যায়। কিন্তু তার কন্যা সন্তানকে বাসায় রেখে যায়। সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় তার স্ত্রী লরি এবং তার ছেলেরা।
তার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তার মেয়ে সাবরিনা ফিলিক্স দুপুরের লান্স করার জন্যে রান্না রুমে রান্না করতে থাকে।


পিছনের দিকে থেকে মরগান এসে একটি কালো পাথর দিয়ে সজোরে ফিলিক্স এর মাথায় আঘাত করে দ। আর সাথে সাথে পিছনে তাকিয়ে তার বাবাকে দেখে কি যেন বলতে চেষ্টা করে কিন্তু তার আগেই মাটিতে পরে যায় আর অজ্ঞান হয়ে যায় ফিলিক্স। এরপর ফিলিক্স এর বাবা মেয়ের দেহটাকে তার গোপন কক্ষ মানে যেখানে শয়তানের উপাসনা করে সেখানে নিয়ে যায়।


নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে সোজা ফিলিক্স এর গলায় ঢুকিয়ে দেয়। আর একটা জোরে ঝাকুনি দিয়ে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায় ফিলিক্স এর শরীর। সাথে মারা যায় মেয়েটি। মরগান তার মেয়ের মৃত দেহ নিয়ে শয়তানের উপাসনা শুরু করতে যাবে ঠিক তখনি মাথায় আরো খারাপ চিন্তা ঢুকে যায়।



আর তখন সে যে ছুরি গলায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলো সেটা বের করে তার মেয়ের পায়জামাটা খুলে মেয়ের যৌনাঙ্গ ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে পুরা জরায়ু সহ বের করে সামনে একটা তারার মত পাঁচ কোণা গোল একটি চিহ্নের মাঝখানে রেখে দেয় মরগান ।চিহ্নটা ঠিক তার বুকে যে চিহ্ন আঁকিয়েছে ঠিক তেমন। চিহ্নটা দেখতে পুরাপুরি তারার মত। এটা নাকি শয়তানের একটা রুপ, মানে এইটা তার চিহ্ন।



মরগান চিহ্নটাতে নিজের মেয়ের জরায়ুটা রেখে দুইটা হাত একত্রে করে হাটু ভাজ করে বসে যায়। আর আস্তে আস্তে বলতে থাকে,
লুসিফার,লুসিফার আমাকে শক্তি দিন। আমি আপনার জন্যে আমার নিজের মেয়েকে দিয়েছি এমনকি তার সাথে অনেক খারাপ কাজ ও করেছি। আমাকে শক্তি দিন, আমাকে শক্তি দিন,লুসিফার লুসিফার।



.
মরগানের উপাসনা শেষ করে মেয়ের লাশটি বস্তায় ভরে পাশের একটি স্রোত চলমান নদীতে ফেলে দেয়।
নিজের মেয়ের লাশটা ফেলে দিয়ে বাসায় আসতে আসতে প্রায় বিকাল ৫ টা বেজে যায়। বাড়িতে এসেই মরগান তার স্ত্রীর ফোনে কল দেয়। আর বলে,
"লরি ! "



ওপাশ থেকে লরি বলে,
"হ্যা বলো "।
"ফিলিক্স বাসায় আসছে না। সেই সকালে বের হয়ে গেছে তার এক বান্ধুবীর সাথে দেখা করতে ।কিন্তু এখন ফেরেনি?"
"কিহ।কি বলছো এসব ?কল করেছিলে?"
"হ্যা। কিন্তু তার মোবাইলটা বন্ধ "?
"আচ্ছা দাড়াও আমি কল দিয়ে দেখি "।
"হুম। "



বলে ফোনটা কেটে দিয়ে মরগান তার উপাসনা রুমে গিয়ে আশেপাশে যে রক্ত লেগে আছে সব পরিস্কার করে রাখে। কিন্তু স্টার চিহ্নে যে মাংস পিন্ড রেখেছিলো সেটা রেখেই দিয়েছিলো মরগান। সব কিছু আগের মত ঠিক ঠাক করে তার গোপন রুমটা তালা দিয়ে বেড রুমে এসে শুয়ে থাকে। তার গোপন রুমটা বাড়ির স্টোর রুম সে রুমে সচারচার কেউ যায় না।আর ওই রুমটার চাবি মরগান এর কাছেই থাকে।
মরগান বিছানায় শুয়ে কি জানি ভাবছে এর মাঝেই তার স্ত্রী বাসায় চলে এসে হাজির। এসেই মরগানকে বলে,
"ফিলিক্স এসেছে"?



"না ।এখনো আসেনি। কিন্তু তুমি আগেই কেন পুলিশকে জানালে"?
লরি অবাক হয়ে যায়। মরগান কিভাবে জানলো যে আমি থানায় গেছিলাম।
তাই লরি মরগানকে বলে,
"তুমি কিভাবে জানলে? আমি পুলিশকে বলেছি?"



Next Chapter