পিশাচ পর্ব ২| Demon Chapter 2

 



মরগান এর স্ত্রী বাসায় চলে আসে। এসেই মরগানকে বলে,

"ফিলিক্স এসেছে"?

"না ।এখনো আসেনি। কিন্তু তুমি আগেই কেন পুলিশকে জানালে"?

মরগান এর স্ত্রী লরি এবার অবাক হয়ে যায়। মরগান কিভাবে জানলো যে সে থানায় গিয়েছিলো।

তাই লরি মরগানকে বলে,

"তুমি কিভাবে জানলে? আমি পুলিশকে বলেছি?"



এই কথা শুনে মরগান একটু ভয় পেয়ে যায়। আসলেই কিভাবে জানলো সে নিজেও জানে নাহ। শুধু তার স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়েই কিভাবে জানি জানতে পারলো যে তার স্ত্রী থানায় গিয়েছিলো । তখন মরগান মনে মনে ভাবে আমি তাহলে দ্বিতীয় ক্ষমতাটা পেয়ে গেছি। তার স্ত্রী যেন কিছু না বোঝে তাই তৎক্ষণাত কথাটা কাটিয়ে দেওয়ার জন্য তার স্ত্রী লরিকে বলে,



"আমার একটা পরিচিত লোক ফোন দিয়েছিলো সে তোমাকে নাকি থানায় দেখছে। তাই আমি ভেবেছি তুমি আমাদের মেয়ের জন্যে গিয়েছিলে।কিন্তু লরি আগেই পুলিশকে জানানো কি ঠিক হয়েছে? "

লরি একটু রেগে গিয়ে বলে,

"আমি ঠিক করেছি। আচ্ছা শোন ফিলিক্স কি তোমাকে কোন ফ্রেন্ডের নাম বা কোন জায়গায় যাবে এমন কিছু বলে গেছে?

"নাহ। "

"কোথায় গেছে সেটাতো শুনেছো নাকি? "

"শুনেছি। আমাকে বলেছে একটা ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাবে। "

"কোন ফ্রেন্ডের সাথে নাম বলেছে"

"না। নাম বলেনি কোনো "



মরগান এর স্ত্রী এবার আরো রেগে গিয়ে বলে,

"তাহলে কি জানো তুমি ?তোমার মেয়ে কোথায় যাচ্ছে এটা শোনা কি তোমার কর্তব্য না। তোমার জন্যে আজকে এই দিনটা দেখতে হচ্ছে আমাদের। কেয়ার লেস একটা মানুষ।"

মরগানকে আরো বিভিন্ন কথা শুনিয়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করে দেয় লরি।



বেশকিছুক্ষন পর বাসায় পুলিশ আসে। এসে পুলিশ মরগান এর মুখ থেকে বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর শুনে নোট করে নিয়ে যায় চলে যায়।



এভাবে বেশকিছুদিন কেটে যায়। তবুও ফিরছে না ফিলিক্স। ফিরবেই বা কিভাবে তাকে তো মেরে ভেসে দিয়েছে তার নিজের বাবা।



এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ প্রায় এক মাস কেটে যায় তবুও পুলিশ মেয়েটাকে খুজে পায় না। এবং তার লাশের ও কোন খোজ পায় না। এদিকে ফিলিক্স এর মা তার মেয়ে পাওয়ার আশা বুকের ভিতরে রেখেই দিয়েছে। সব সময় নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে এই বলে যে ফিলিক্স একদিন ফিরে আসবেই। 



এভাবে প্রায় ৩ মাস কেটে গেল। কোন খোঁজ পাওয়া গেল না ফিলিক্স এর । এতদিন কেটে যাওয়ায় লরির ভিতরে কষ্টটা একটু হলেও কমে গেছে ।



তবে মরগানের স্ত্রী এর মধ্যেই মরগান এর কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেছে। তার মেয়ে নিঁখোজ হওয়ায় সে নিজে না যতটা দুঃখ পেয়েছে তার এক শতাংশ কষ্ট পায় নি মরগান। মরগান এর চলাফেরায় কোন প্রকার শোক বা কষ্ট কোনোটাই দেখা যায় নি। এমনকি যেদিন ফিলিক্স নিখোঁজ হয়েছে সেদিন ও মরগানের মধ্যে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায় নি। তবুও তার স্ত্রী মনে মনে ভাবে হয়তো মরগান প্রচুর কষ্ট পেয়েছে ভিতরে ভিতরে কিন্তু কাউকে প্রকাশ করে না হয়তো।হয়তো মেয়ের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেয়ে একটু পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিন্তু ইদানিং মরগানের আরো একটা জিনিস খেয়াল করছে লরি। মরগান একটা মানুষ কিছুক্ষন আগে কি করে আসছে বা কোন কাজ করেছে সেটা সে মানুষটিকে দেখেই বলে দিতে পারে। যদিও লরির কাছে কখনো প্রকাশ করেনি। কিন্তু এই বিষয়টা বেশ কিছুদিন হচ্ছে খেয়াল করছে লরি।



কিছুদিন আগে মরগান এর স্ত্রী লরি তাদের পরিবারের সবার মন ভালো করার জন্যে লরির এক ঘনিষ্ট বান্ধুবীর বাড়িতে বেড়াত যাবে বলে প্লান করে, সাথে তার সন্তানদের এবং মরগানকে নিয়েই । তাই লরির বান্ধুবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য সবাই রেডি হয় । রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে একটি রিক্সাকে ডাকলো মরগান। রিক্সাটা যখনি আমাদের কাছে এসে দাড়ালো ঠিক তখনি মরগান বলল,

"চাচা আপনি যান আমরা এখন যাবো না। "



হঠাৎ এমন কথা শুনে লরি অবাক হয়ে বলে,

"কেন?কি হয়েছে?"

একটু মুখ গোমরা করে বলে,

"কিছু না কাজ আছে । চাচা আপনি যান।"

রিক্সা ওয়ালা চলে যায়। আর এদিকে লরি বলে,

"কি হয়েছে রিক্সা ডেকে আবার বলো যাবো না।।সমস্যা কি?"

"এই রিক্সাওয়ালা ভালো না। একটু আগেই চুরি করে এসেছে।"

"মানে।তুমি কিভাবে জানলে? "



এই কথার উত্তর শুনতে না শুনতেই পিছন থেকে একজন মহিলা আর দুইজন পুরুষ রিক্সাওয়ালা চাচাকে ধরার জন্যে পিছন থেকে দৌড়ে দৌড়ে যাচ্ছে। লরি তো অবাক কিভাবে জানলো মরগান । তাই মরগানকে আবার বলে,

"তুমি কিভাবে জানলে? "



মরগান তখন একটু চুপ থেকে তারপর বলে,

"দূর থেকে দেখছি আমি। যে মহিলার জিনিস নিয়েছে সে একটু আগেই তার রিক্সায় থেকে নেমেছে তিনি কিন্তু যে জিনিসটা চুরি হয়েছে সেটা ভুলে রিক্সায় ফেলে গেছে। আর সাথে সাথে রিক্সাওয়ালা জিনিসটা নিজের কাছে লুকিয়ে ফেলে।"



লরি আর বেশি কিছু না ভেবেই পরের রিক্সা ডাকে আর সেটাতেই পুরো পরিবার উঠে লরির বান্ধুবীর বাড়িতে রওনা হয়। রিক্সাতে লরি ভাবতে থাকে এরকম বেশকিছুদিন হচ্ছে মরগান মানুষের অতীত ঘটে যাওয়ার কথা বলছে। আবার উপযুক্ত কারন এবং কিভাবে জানলো সব বলে দিচ্ছে কিন্তু মরগান তো আগে এমন ছিলো না এখন কেন যেন অনেক চালক হয়ে গেছ সে । সম্পুর্ণ পর্ব পেতে অবশ্যই আমাকে রিকুয়েস্ট দিবেন নইলে পরের পার্ট না পাইলে আপনারা নিজেদের মধ্যেই কোতুহল থাকবে না। তাই বলে রাখছি। 



এগুলা ভাবতে ভাবতেই লরির বান্ধুবীর বাড়ি এসে যায়। 

বাড়ির কাছে এসে রিক্সা থেকে নেমে লরি তার বান্ধুবীকে ফোন করে। তার বান্ধুবী বেশ ভালো বংশের এবং অনেক ধনী পরিবারের মেয়ে। তাদের নিজস্ব তিন তলা বাড়ি আছে। যে বাড়ির সামনে মরগান এর পরিবার দাঁড়িয়ে আছে সেই বাড়িটা লরির বান্ধুবীদের নিজের। লরি তার বান্ধুবীকে কল করে তার সাথে দেখা করে। আর মরগান তার বান্ধুবী দেখেই বলে,



"আমি মরগান। লরির হাজবেন্ড। "

লরির বান্ধুবী বলে,

"আমি লুইস। লরির পুরাতন বান্ধুবী "

তারা সেখানে পরিচয় হয়ে বাড়ির ভিতরে যায়।




এই বাড়িটা লুইস মানে লরির বান্ধুবীর বাবার। এই বাড়িতে তার বাবা-মা থাকে নিচ তালায় আর উপর তালায় থাকে তার ফ্যামিলি। লুইস এর হাজবেন্ড ঘরজামাই হিসেবেই থাকে। অনেকদিন পর লুইস আর লরির দেখা হওয়ায় গল্প করা শুরু করে দেয়। এর মাঝেই ফিলিক্সকে নিয়েও কথা উঠে আর তখন লরি কেঁদে দেয়। এদিকে লুইস তাকে শান্তনা দেয়। তাছাড়া তো আর কিছু করার নেই বা বলার ও নেই। মরগান লরি এবং লুইস কথা বলতে বলতে লুইস এর হাজবেন্ড মিস্টার কিবরিয়া উপস্থিত হয়। লরি তাকে দেখেই দাঁড়িয়ে বলে, 




"কেমন আছেন। আমি লরি।"

লুইস এর হাজবেন্ড বলে,

"অহ তুমিই লরি অনেক বার তোমার কথা শুনেছি লুইস এর মুখ থেকে। "

এরপর লরি মরগানকে দেখিয়ে বলে,

"এটা আমার হাজবেন্ড? "

 কিবরিয়া মরগানের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,

"হেই ব্রো। আই এ্যাম কিবরিয়া ।

মরগানও হাতটা ধরে বলে,

" কাকে খুন করে আসলেন? "



হঠাৎ মরগানের মুখে এমন কথা শুনে রুমে সবাই চমকে উঠে। খুন মানে লরির বান্ধুবী লুইস এবার একটু রেগে বলে,



Next Chapter                                                                                                                 Previous Chapter