পিশাচ পর্ব ৩| Devil Chapter 3



কিবরিয়া মরগানের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,
"হেই ব্রো। আই এ্যাম কিবরিয়া ।
মরগানও হাতটা ধরে বলে,
" কাকে খুন করে আসলেন? "
হঠাৎ মরগানের মুখে এমন কথা শুনে রুমে সবাই চমকে উঠে। খুন মানে লরির বান্ধুবী লুইস এবার একটু রেগে গিয়ে বলে,
"কি বলছেন এসব আজেবাজে কথা?খুন মানে।এরকম অসভ্যতা করছেন কেন? "
মরগান বলে,
"হ্যা খুন। আপনার হাজবেন্ড একটু আগে খুন করে এসেছে। আর তিনি...
বলতেই দরজা কে যেন নক করে। লুইস দরজাটা খুলতেই কয়েকজন পুলিশ ঘড়ের ভিতরে ঢুকেই কিবরিয়াকে আটক করে। কিবরিয়ার স্ত্রী লুইস পুলিশকে বলে,
"আপনারা আমার হাজবেন্ডকে ধরছেন কেন? কি হয়েছে? কি অপরাধ তার? "
পুলিশদের মধ্যে একজন বলে,
"একটু আগে রাস্তায় একজনের সাথে আপনার হাজবেন্ডের কথা কাটাকাটি হয়েছে ।তার জন্যেই আপনার হাজবেন্ড সেই লোকটিকে খুন করে এসেছে এখুনি। "
" আমার হাজবেন্ড খুন করেছে তার প্রমান কি?"
সাথে সাথে পুলিশ একটা ভিডিও দেখায় লুইসকে।ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিবরিয়া একজনের সাথে গলা ধাক্কা ধাক্কি করতে করতে একপর্যায়ে লোকটির গলায় ছুরি ঢুকিয়ে দেয়।
ভিডিওটি দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায় লুইস এর হাজবেন্ডকে।
.
লরি তার বান্ধুবীকে সান্তনা দিয়ে তারাতারি করে তখনি বাসায় চলে আসে। বাসায় এসেই তার হাজবেন্ডকে বলে,
"আচ্ছা তুমি কিভাবে জানলে লোকটি খুন করে এসেছিলো?"
কোন কিছু না ভেবেই বলে,
"লোকটি হাতে এবং শার্টে রক্ত লেগেই ছিলো । "
লরি ভাবে সত্যি মনে হয় । কিন্তু তবুও এরপর থেকে তার হাজবেন্ডকে একটু সন্দেহ করা শুরু করে । কারন সে কি কোন অলৌকিক শক্তি পেয়েছে কি না এটা জানতে হবে। এরপর থেকে বেশ কিছুদিন হচ্ছে লরি তার হাজবেন্ডর উপর বিশেষ নজর রাখছে। কিন্তু কোন কিছুই হচ্ছে না।তার হাজনবন্ডের সম্পর্ককে কিছুই জানতে পারছে না। তবে মরগান দিনে একবার হলেও বাড়ির স্টোর রুমের কাছে যায়।
মরগান যখনি স্টোর রুমের কাছে যায় ঠিক তখনি লরি পিছন থেকে তাকে খেয়াল করে। কিন্তু মরগান আর স্টোর রুমে প্রবেশ করে না। স্টোর রুমের দরজা থেকে কোন না কোন কারন দেখিয়ে ফিরে আসে। তবে অনেকবার ঠিক একই জায়গা থেকে ফিরে এসেছে মরগান। তার এমন কাজের কোন রহস্যই খুজে পাচ্ছে না লরি।
.
মরগান এখন লুসিফারের শীর্ষ। প্রয়োজন অপ্রয়োজনে লুসিফারকে ডাকে বা তার ইবাদত করে। মরগানের এখন ইচ্ছা পৃথিবীর সব চেয়ে শক্তিশালী ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান হবে। তাই সে আবার মাইকেলের সাথে দেখা করে। মাইকেলকে বলে,
"আমি সব চেয়েশক্তিশালী হতে চাই.?এমনি তোমার চেয়েও বেশি। কিভাবে হবো?"
মরগান মুচকি হেসে বলে,
"তোমাকে প্রথম দিন এই বলেছি যে যত উপাসনা করবে, ত্যাগ করবে সে তত বেশি শক্তিশালী হবে। "
মরগান এবার নিজের গায়ের শার্টটা খুলে মাইকেলকে দেখিয়ে বলে,
"আমি যথেষ্ট উপাসনা করি।"
মাইকেল দেখে মরগান তার নাভীর চারপাশে ব্লেড দিয়ে কেটে লুসিফারের চিহ্ন আর্ট করেছে মানে তারা । এটা দেখার পর মাইকেল বলে,
"আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কি এখন আরো বেশি শক্তিশালি হতে চাও?"
মরগান বলে,
"হুম।"
"আচ্ছা তোমার প্রিয় জিনিস কি?"
"প্রিয় জিনিস বলতে?"
"যেটা তুমি অনেক ভালোবাসো বা যাকে অনেক ভালোবাসো এমন কেউ?"
"হ্যা সেটা আমার ছোট ছেলে রাইহান রমি। "
"হুম। তোমার ছোট ছেলেক লুফিসারের কাছে উৎসর্গ করতে হবে। "
"কিন্তু কিভাবে? "
"পুড়িয়ে। "
"তাহলে কি আমি শক্তিশালি হবো?"
"হ্যা । অনেক শক্তিশালী হয়ে যাবে । "
"আচ্ছা।কিভাবে কি করবো? "
" অমাবস্যার রাতে সূর্য যখন পুরাপুরিভাবে চাঁদকে ঢেকে ফেলে ঠিক রাত ১২ টায় তোমার প্রিয় জিনিসটাকে পুরিয়ে উৎসর্গ করবে লুসিফারের জন্যে। তাহলেই সব হয়ে যাবে।কারন লুসিফারের সব চেয়ে প্রিয় রাত হচ্ছে এই অমাবস্যার রাতটি । এই রাতে লুসিফার তার নিজের সকল উপাসনা কারীর খুব কাছে চলে আছে। আর যে তার জন্যে বেশি প্রিয় জিনিস উৎসর্গ করবে তাকে বেশি শক্তি দিয়ে দিবে"
এই কথা শোনার পর মরগান বলে,
"অমাবস্যার রাত আসতে আরো কতদিন বাকি আছে ?"
"আর বেশিদিন নেই। আগামী পরশু দিবাগত রাতটাই অমাবস্যা। "
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
অমাবস্যার রাতটা যে একটা ভয়ংকর রাত এটা কেউ না মানলেও শয়তান পুজারীরা মানে। এবং সেই রাতে তারা শয়তানের পুজা বেশি বেশি করে।
মরগান বাড়িতে চলে আসে মাইকেল এর সাথে দেখা করে এবং সব কথা শেষ করে।
.
"আম্মু একটা কথা বলি?"
লরি বলে,
"হ্যা বলো? "
লরির ছোট সন্তান রাইহান রমি বলে,
"আপুকে না পাপা মেরে ফেলেছে। "
হঠাৎ করে এরকম একটা পিচ্চি ছেলের মুখে কথাটা শুনে চমকে উঠে লরি। রমির বয়স সবে মাত্র ৭-৮ বছর হবে হয়তো। সে এরকম কথা বলায় তার মা লরি তার কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত দিয়ে বলে,
"কেন? তোমার পাপা মারবে কেন? হঠাৎ এমন মনে হলো কেন? "
"আজকে আপু আমাকে ঘুমের মধ্যে এসে বলেছে।"
"কি বলেছে?"
"বলেছে তাকে নাকি পাপা মেরে ফেলেছে। এবং এরপর আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে সবধানে থাকতে বলেছে আপু। "
এই কথা শুনে লরি একটু মুচকি হেসে দিয়ে মনে মনে ভাবে ছোট মানুষ তাই হয়তো আজেবাজে স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে গেছে। তাই তাকে সান্তনা দেওয়ার জন্যে বলে,
"আচ্ছা শোন।মানুষ স্বপ্নে আরো অনেক কিছুই দেখে সেগুলা কি সব সত্যি? তাই তোমার টাও সত্যি নয়। আর তোমার বাবা তোমাকে অনেক ভালোবাসে সে তোমাকে মারবে কেন বলো । আচ্ছা আসো তোমাকে খাওয়াবো ভয় পেয়ো না। স্বপ্নের কথা ভুলে যাও। "সম্পুর্ন পর্ব পেতে আমাকে রিকুয়েস্ট দিন এতে গল্প পরতে সুবিধা হবে।
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
ঠিক এমন সময় হাজির মরগান। এসে ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। আর ছেলে একটু আগে কি বলেছে সব জানতে পারে । তবুও সে তার স্ত্রীকে কিছু না বোঝার ভান করেবলে,
"কি করছো তোমরা দুইজন?"
লরি বলে,
"তোমার ছেলের সাথে গল্প করি। আর তোমার ছেলে একটা স্বপ্ন....."কথা বলেই আটকে যায় লরি।
মরগান তো সব জেনেই গেছে। কারন সে কারো চোখের দিকে তাকালে তার সব জানতে পারে। মরগান তার ছোট ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে সব আগেই জেনে গেছে। তবুও একটু না জানার ভান করে বলে,,
"কিসের স্বপ্ন?"
লরি ভাবে এটা বলা যাবে না মরগানকে। কারন যদি আবার রমির স্বপ্ন সত্যিই হয়ে থাকে তখন কি হবে। তাই সে একটু তোতলামু করে বলে,
"কি কি কিছু না। রমিকে খাওয়াবো এখন তুমি তোমার রুমে যাও। "
মরগান আর বেশি কিছু না বলে চলে গেল।
ভিতরে গিয়ে ভাবতে থাকে রমি এসব জানলো কিভাবে।

মরগান শুধু কিছুক্ষন আগে কি বলেছে সেটা জানতে পেরেছে কিন্তু যা বলেছে সেই কথাটা কিভাবে জানলো রমি সেটা তো জানতে পারি নাই। এগুলা চিন্তা না করে মরগান মনে মনে প্লান করছে কিভাবে তার সন্তানকে উৎসর্গ করবে। কারন পুড়িয়ে ফেলতে হবে । এদিকে লরিকে আবার ম্যানেজ করতে হবে । তাকে এমনভাবে উৎসর্গ করতে হবে যাতে করে সবাই যেন ভাবে সে আত্নহত্যা করে করেছে। এরকম প্লান খুজছে মরগান। 


Next Chapter                                                                                                                 Previous Chapter